মেয়েদের পেট এর ওজন কমানোর ১০ টি উপায়
শরীরে বাড়তি ওজন ছেলে মেয়ে সবার জন্যই বেশ চিন্তার বিষয়। মেয়েরা যেহেতু সৌন্দর্য প্রিয় তাই তাদের কে দেহের ওজন বৃদ্ধি ছেলেদের তুলনায় একটু বেশিই চিন্তার কারন। বিশেষ করে পেটে বাড়তি ফ্যাট বা চর্বি জমলে দেখতে কিছুটা খারাপ লাগে অনেকের কাছে। আজকের পোস্টে চেষ্টা করবো কিভাবে মেয়েরা তাদের দেহের ওজন কমাবেন। বিশেষ করে পেটের ওজন কমানোর উপায়।
পেটের চর্বি বা ওজন কমাবো কিভাবে?
১। স্ট্রেস মুক্ত থাকুন – ওজন কমতে হেল্প করবে
ওজন বৃদ্ধির সাথে স্ট্রেস এর কি সম্পর্ক তা অনেকের জন্যই প্রথমে বুঝে উঠতে সমস্যা হলেও বাস্তবতা হলো আপনি যখন স্ট্রেস এর মধ্যে থাকেন তখন adrenal glands কে একটি হরমোন cortisol তৈরি করে ( একে স্ট্রেস হরমোন ও বলে) ।
cortisol বৃদ্ধি পেলে খুদা বৃদ্ধি পায় আর মানুষ তখন বেশি খাবার গ্রহন করে থাকে। এতে মেদ বৃদ্ধি পেতে পারে।
২। সুগারি খাবার কম খান।
অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খাওয়ার চেষ্টা করুন। মিষ্টি খাবার ওজন বাড়িয়ে তুলতে পারে।
৩। কারডিও এক্সারসাইজ করুন।
প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত কারডিও ব্যায়াম করুন। এটি আপনার ওজন / চর্বি কমাতে হেল্প করবে।
৪। ভার উত্তোলন ব্যায়াম করুন।
যদিও ভার উত্তোলন পেশি বৃদ্ধির জন্য বেশ কাজের, কিন্তু এটি আপনাকে আপনার ওজন কমাতেও উপকার করবে।
আরও জানুনঃ যে কারণে হয় ডায়রিয়া: লক্ষণ, প্রতিরোধ ও প্রতিকারের উপায়
৫। মিষ্টি জাতীয় পানিও বাদ দিন।
বিভিন্ন রকমের সফট ড্রিঙ্কস, চা ইত্যাদি এসব কম পান করুন। বিশেষ করে সফট ড্রিঙ্কস যেমন সেভেন আপ, কোঁকা কলা ইত্যাদি গুলো একেবারে বাদ দিন।
৬। ঠিক মত ঘুম।
ঘুম আমাদের জন্য অনেক দরকারি একটি বিষয়। ঘুম ঠিক মত না হলে কত রকমের সমস্যা হতে পারে তার ঠিক নেই ।
গবেষণায় দেখা গেছে ৫ ঘণ্টার চেয়ে কম ঘুম মহিলাদের শরীরে ওজন বৃদ্ধি তে কারন হতে পারে। ( গবেষণার ব্যাপারে আমি কনফার্ম না। আপনারা চাইলে খোঁজ খবর নিয়ে কনফার্ম হতে পারেন)
৭। সাওম রাখুন।
প্রতি সপ্তাহে সোমবার ও বৃহস্পতিবার এই দুই দিন রোজা রাখুন। চন্দ্র মাসের ১৩,১৪,১৫ তারিখ রোজা রাখুন। নিয়ত রাখুন রোজার সওয়াব ও শরীরের উপকার প্রাপ্তি ২ টাই। ইনশা আল্লাহ্ সওয়াব ও পাবেন সাথে ওজন ও কমাতে পারবেন।
৮। পানি পান করুন।
পানি হলো প্রাকৃতিক ক্লিঞ্জার। বেশি বেশি পান করুন। এটি আপনার দেহের বিকাপ হার বাড়াবে এবং বিষাক্ত উপাদান দূর করতে সাহায্য করবে।
যাদের ব্রনের সমস্যা আছে তাদের জন্যও পানি উপকারি।
৯। লেবুর শরবত।
জি লেবুর শরবত খেতে বলছি দেখে চিনি মিশানো শরবত খায়েন না আবার!
নিয়মিত সকালে লেবু লবন এর শরবত পান করুন।
১০। ফাস্ট ফুড বাদ দিন।
ফাস্ট ফুড হলো শরীরে ওজন বৃদ্ধি, চর্বি বৃদ্ধির অন্যতম একটি কারন। আর বাইরের খাবার গুলো দেহের জন্য এমনিও খারাপ। তাই আজকে থেকেই বাইরের খাবার এড়িয়ে চলুন।
পেট এর ওজন কমানোর উপায়
১১। পরিমিত খাবার গ্রহন।
আমাদের অনেকে আছে খাবারের সময় পুরা পেট একদম ঠেসে খাবার খায়। এটি সবার জন্যই খারাপ। খাওয়ার সময় পেটের একটা অংশ পানির জন্য আর একটু অংশ খাওয়ার পরেও ফাকা রাখা উচিত। এতে করে হজম ভালো হয়। আর হাদিসেও আছে এমন কথা ( হুবহু না, মূল কথা এমন। আপনারা যাচায় করে নিতে পারেন)
১২। ডেইলি হাটুন।
একদিন ২০ কিলো মিটার হাটার চেয়ে প্রতিদিন ২ কিলোমিটার করে হাটুন। কাজে দিবে।
আরো কিছু টিপস স্বাস্থ্যকর খাবার এবং স্ন্যাকস মানুষের ডায়েটের ভিত্তি তৈরি করা উচিত। খাবার পরিকল্পনা তৈরির একটি সহজ উপায় হ’ল প্রতিটি খাবারের মধ্যে 50 শতাংশ ফল এবং শাকসব্জী, 25 শতাংশ গোটা দানা এবং 25 শতাংশ প্রোটিন রয়েছে তা নিশ্চিত করা। মোট ফাইবার গ্রহণের পরিমাণ 25-30 গ্রাম হওয়া উচিত ।
ডায়েট থেকে ট্রান্স ফ্যাট নির্মূল করুন এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণের পরিমাণ হ্রাস করুন, যা করোনারি হৃদরোগের ঘটনার সাথে একটি শক্তিশালী যোগসূত্র রয়েছে ।
পরিবর্তে, লোকেরা মনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড (এমইউএফএ) বা পলিউনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড (পিইউএফএ) গ্রহণ করতে পারে, যা অসম্পৃক্ত ফ্যাট জাতীয় ধরণের।
আরও জানুনঃ
নিম্নলিখিত খাবারগুলি স্বাস্থ্যকর এবং প্রায়শই পুষ্টিতে সমৃদ্ধ:
- তাজা ফল এবং শাকসবজি
- মাছ
- শাপলা
- বাদাম
- বীজ
কিছু ক্ষেত্রে, খাদ্যতালিকা থেকে কিছু খাবার অপসারণের ফলে একজন ব্যক্তির কিছু প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজগুলির ঘাটতি হতে পারে । একজন পুষ্টিবিদ, ডায়েটিশিয়ান বা অন্য কোনও স্বাস্থ্যকর্মী কোনও ব্যক্তিকে ওজন হ্রাস প্রোগ্রাম অনুসরণ করার সময় পর্যাপ্ত পুষ্টি পেতে কীভাবে পরামর্শ দিতে পারেন।
একটি খাদ্য এবং ওজন ডায়েরি রাখুন
স্ব-পর্যবেক্ষণ সফলভাবে ওজন হ্রাস করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লোকেরা প্রতিদিন খেয়ে থাকা প্রতিটি খাবারের রেকর্ড করতে একটি কাগজ ডায়েরি, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে পারে। তারা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ওজন রেকর্ড করে তাদের অগ্রগতিও পরিমাপ করতে পারে।
যারা ছোট সাফল্যের সাথে তাদের সাফল্য ট্র্যাক করতে পারে এবং শারীরিক পরিবর্তনগুলি সনাক্ত করতে পারে তাদের ওজন হ্রাসের পদ্ধতিতে আটকে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
বিএমআই ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে লোকেরা তাদের বডি মাস ইনডেক্স ( বিএমআই ) ট্র্যাক করতে পারে ।
নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ এবং অনুশীলনে নিযুক্ত হন।
নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ একজন ব্যক্তির ওজন হ্রাস করতে সহায়তা করে।নিয়মিত অনুশীলন শারীরিক এবং মানসিক উভয় স্বাস্থ্যের জন্য জরুরী । শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং উদ্দেশ্যমূলক উপায়ে শারীরিক ক্রিয়াকলাপের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো সফল ওজন হ্রাস করার জন্য প্রায়শই গুরুত্বপূর্ণ।
যে সমস্ত লোকেরা সাধারণত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকেন না তাদের ধীরে ধীরে তাদের অনুশীলনের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে এবং ধীরে ধীরে এর তীব্রতা বাড়াতে হবে। নিয়মিত অনুশীলনটি তাদের জীবনযাত্রার অংশ হয়ে যায় তা নিশ্চিত করার জন্য এই পদ্ধতির সর্বাধিক টেকসই উপায়।মেয়েদের পেট এর ওজন কমানোর উপায়